বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি॥
বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের পারশিবপুর গ্রামে দুই হত্যা মামলার আসামী শহীদ দফাদার ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠায় এলাকাবাসী আতংকে দিন কাটাচ্ছে। জানা যায়, উপজেলার পারশিবপুর গ্রামের মৃত আরব আলী দফাদারের ছেলে শহীদ দফাদারের সাথে নিজ শালি নূপুর বেগমের পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরকিয়ার বিষয়টি শ্বশুর আহমেদ আলী জানতে পেরে নিষেধ করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ০৮ জুলাই ২০১৭ তারিখে আহমেদ আলীকে খুন করে বাড়ির বাগানে ফেলে রাখে শহীদ দফাদার। মামলা নং-১২/২০১৬। পরে হাইকোর্টের মিস কেস নং-১৮০৬০/১৮ মূলে ছয় মাসের অর্ন্তবতী কালীন জামিনে মুক্তি পান শহীদ দফাদার। হত্যা মামলাটি থানা পুলিশ থেকে উড্রো হয়ে ডিভিতে হাস্তান্তর হয়। থানা পুলিশ আসামীকে রিমান্ডে নিলেও আসামী ও পুলিশের সখ্যতার কারণে তদন্তে তেমন কিছু অগ্রগতি হয়নি। বরং আসামি জামিনে এসে মামলার বাদী, স্বাক্ষীসহ শালি নূপুর ও তার সন্তানকে প্রতিনিয়ত খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। শহীদ দফাদার শালী নূপুর বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ২৬ জুন ২০১৯ তারিখ রাত ১২ টার দিকে তার বাড়ির কাজের লোক হাবিব গাজীকে নূপুর ও তার ছেলে মেয়েকে ঘুমিয়েছে কিনা দেখতে পাঠায়। হাবিব গাজী বরগুনা জেলার আমতলী গ্রামের মজিদ গাজীর ছেলে। বাড়ির লোকজন ডাকাত সন্দেহ ডাকচিৎকার দিলে বাড়ির অন্য লোকজনের সহায়তায় হাবিব কে ধরে ফেলে। হাবিবকে পুলিশ কাছে সোপর্দ করলে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় নূপুর বেগম নিজ সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তাসহ আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে শহীদ দফাদার ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন সন্ত্রাসীদের নিয়ে গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ধারালো চাপাতি, রামদা নিয়ে নূপুর ও তার সন্তানদের হত্যার উদ্দেশ্যে নূপুরদের বাড়ি যায়। সন্ত্রাসীদের দেখতে পেয়ে নূপুর বেগম ভয়ে ঘরের ভিতর ডুকে পরলে শহীদ দফাদার অনাধিকার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে তাকে এলোপাথারী কোপাতে থাকে। নূপুর বেগম অজ্ঞান হয়ে পরলে সন্ত্রাসীরা মৃতভেবে দৌড়ে ঘর থেকে পালানোর সময় পাশের ঘরের নূপুর ভাসুরের ছেলে (হত্যাকারীর বোনের ছেলে) রোমান (১৫) শহীদ দফদারকে নিজ চোখতে পায়। রোমান ধর ধর বলে ডাকচিৎকার দিলে শহীদ দফাদার রোমানকে রক্তচুক্ষু দেখিয়ে পালিয়ে যায়। বাড়ির অন্যান্য লোকজন এসে আহত নূপুর বেগম কে ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করে। তার চিকিৎসাকার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আহত নূপুর বেগম মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ বিষয়ে আহত নূপুরের স্বামী শহীদ হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, শহীদ দফাদার আমার বাবাকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি। জামিন মুক্তি পেয়ে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে তার ভয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। এ সুযোগে সে আমার স্ত্রী নূপুর কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। শহীদ দফাদার স্থানীয় মিন্টু মৃধার ফুফাত ভাই হওয়ার সুবাদে এসব হত্যাকান্ড চালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানায় স্থানীয় জনসাধারণ।
