এম.এস.আই লিমনঃ
নিয়মের বাইরে চলার আর কোন সুযোগ নেই বিসিসিতে।শায়িত শাসিত সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) এখন থেকে কেবল নগরসেবাই নগরবাসীদের দ্বারে পৌছে দিবে। চতুর্থ পরিষদের নির্বাচিত বিসিসি'র মেয়র মহানগর আ'লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহনের পরেই প্রতিটা দাপ্তরিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে গোপন অডিট করে। এতেকরে বিসিসি'র নগর ভবনের দাপ্তরিক কার্যক্রমে নানান দূর্নীতি অনিয়ম সহ কাজ না করেও বেতন ভোগ করার মত প্রমান মেলে অডিটে। এর ন্যায় নগর সেবা প্রদানের বিপরীত মূখি কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি মূলক পদের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে বিভিন্ন পদের রদবদল করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে বিসিসি কতৃপক্ষ। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী পাঁচ শতাধিক এবং অস্থায়ী দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক ও মাষ্টার রোলে প্রায় ২১ শ জনবল রয়েছে। যাদের বেতন ভাতা ও মজুরী বাবদ প্রতি মাসে বিসিসি'র প্রায় ৩ কোটি টাকার মত রাজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়ে আসছে। এর মধ্যে অস্থায়ী প্রায় ৮ শত কর্মচারী রয়েছে যারা কেবল মাস শেষে বেতন উত্তোলন করা ছাড়া কোন কাজই করে না। বসে বসে বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের সাথে গোপন সক্ষতায় মাস শেষে কাজ না করেও বেতন ভোগ করে আসছে৷ এদের মধ্যে প্রয়শদেরই মূখ খোদ বিসিসি'র অনেক কর্তাব্যক্তিরাই চিনে না। তাছাড়া অস্থায়ী দৈনিক মজুরীর শ্রমিকদের বেতন প্রদান এ্যানালক পদ্ধতিতে হিসাব শাখা থেকে বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের মাধ্যমে দিয়ে আসলে প্রতি মাসেই লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা লুটপাট করে ভোগ বিলাসে রাজস্ব ফান্ড ফাঁকা করে আসছিল। বিসিসি'র মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচিত হবার পরে দায়িত্ব গ্রহনের পর চতুর্থ পরিষদের প্রথম সভায় সাবেক পরিষদের সময় কালে প্রতি মাসে অস্থায়ীদের বেতন বাবদ ১ কোটি টাকা ব্যায় দেখানো হলেও হিসাব করে দেখা যায় ৮০ লক্ষ টাকা বেতন প্রদান করার পরে বাকী টাকা আত্বস্বাদ করে হিসাব রক্ষন বাজেত কাম অফিসার মশিউর রহমান বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরে মাস ব্যাপী অডিট করে অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখে প্রমান মিললে পর্যায় ক্রমে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে রাখার কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই নগরভবনের দাপ্তরিক সকল কাজে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলীয় ব্যানার লাগিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা শ্রমিক কাগজে দেখিয়ে ভূয়া ভাউচারে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্বস্বাদ করে আসার বিষটিও অডিটে প্রমান মিললে তাকেও অব্যহতি দেয়। ফলে বিসিসি'র কর্তব্যরত সহ নগরবাসীর কাছে প্রশংসনীয় স্থানে জায়গা পায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। দল মত নির্বিশেষে নগরসেবার জন্য নগর পিতার আসনে বসে নিজ রাজনৈতিক দলীয় অনুসারী বিসিসি'র কর্মচারীদের অনিয়ম দূণীর্তি কারনে না ছেড়ে সমান ভাবেই সকলের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে আসাতে যোগ্য নগরপিতা হিসেবেই স্বল্প সময়ে ক্ষ্যাতী লাভ করেছে তিনি। দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক ও মাষ্টার রোল প্রায় ২১ শ কর্মচারীদের চিহ্নিত করন এবং বেতন ভাতা প্রদানের পাকাপোক্ত ভাবে যথাযথ করনে জাতীয় পরিচয় পত্রের ছায়াকপি ও রঙিন পাসপোট সাইজের সদ্য তোলা ছবি নিয়ে আগামি কাল শুক্রবার নগরীর বরিশাল কলেজ ক্যাম্পাস মাঠে উপস্থিত হবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে করে অলস ভাতা ভোগ করা কতিপয়রা চিহ্নিত হওয়া দায়িত্ব বন্টনেও কোন জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে না তাদের৷ সিটি মেয়রের এমন প্রতিটা কার্যক্রমে নগরসেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীরা তাদের কাঙ্খীত সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না বলেও আশা ব্যক্ত করে।

Post a Comment